April 19, 2026, 1:45 pm

স্ত্রীর লাশ নিয়ে রাজপথে দুর্ঘটনার নাটক স্বামীর!

স্ত্রীকে হত্যা করে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর নাটক সাজাতে গিয়ে শেষ রা হলো না সাকিবুল আলম মিশুর। অবশেষে পুলিশ তাকে আটক করেছে।

স্ত্রীর লাশ প্রাইভেটকারে তুলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান মিশু। হাসপাতালে গিয়ে মিশু জানান, হাতিরঝিল আমবাগান এলাকায় রাস্তায় আইল্যান্ডের উপর গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা দিলে তিনি ডান হাতে সামান্য আঘাত পান এবং গাড়িতে থাকা তার স্ত্রী ঝিলিক আলম (২৩) গুরুতর আহত হন। তার তিনি স্ত্রীকে ঢামেক হাসপাতাল নিয়ে আসেন। পরে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বেলা সোয়া ১১টায় ঝিলিককে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশের কাছে বিষয়টি সন্দেহ হলে মিশুকে আটক করে। পরে গুলশান-২ নম্বর সড়কের ৩৬ নম্বর রোডের বাসার সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, চারজন ব্যক্তি ওই নারীকে বাসার সিড়ি থেকে চ্যাং দোলা করে বের করছেন।

ঝিলিকের মায়ের অভিযোগ- ঝিলিক ও মিশু ভালোবেসে ২০১৮ সালে বিয়ে করেন। প্রায়ই তার মেয়েকে নির্যাতন করা হতো। তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম জানান, ওই নারীর স্বামীর আচরণ রহস্যজনক মনে হওয়ায় তাকে জেরা করা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায় তার বাসা গুলশানে। এরপর সিসি ক্যামেরার ফুটেজ যাচাই বাছাই করে দেখা যায়, ঝিলিককে বাসা থেকেই অচেতন অবস্থায় বের করা হয়। এরপর স্বামী সাকিবুল আলম মিশুকে আটক করে হাতিরঝিল থানার পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ওই নারীর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখম রয়েছে।

নিহত ঝিলিকের দেবর ফাহিম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ঝিলিকের বাসাতেই মৃত্যু হয়েছে। তবে তার ভাই কেন দুর্ঘটনার কথা বলেছেন, তা তার জানা নেই।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা